কিভাবে দরপত্রে অংশগ্রহণ করবেন?

দেশের জনসংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। সবাইকে শিক্ষিত করার জন্য সরকারের নানা মূখী কর্মসূচী চলছে। কিন্তু বাস্তবে দেশে কর্মসংস্থান বরাবরই অপ্রতুল। তাহলে কোথায় হবে চাকরী! কিন্ত বেঁচে থাকার জন্য তো কিছু একটা করতে হবে! এমন বৈরী অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাকরী না হলে উদ্যোক্তা হতে পারি!

সরকার দেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং কাজ দাতা। প্রতিবছর বাজেটের সিংহভাগ টাকা খরচ করতে দরপত্রের মাধ্যমে প্রতি জেলা, উপজেলা এবং পৌরসভা/সিটিকরপোরেশন গুলোতে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত কাজ দেওয়া হচ্ছে। সরকারী সংস্থা গুলোর মধ্যে PWD, LGED, WDB, REB, RHD অন্যতম। সরকারী সংস্থা সবাইকে পিপিআর অর্থাৎ পাবলিক ক্রয় নিয়মাবলী মেনেই সব কেনাকাটা করতে হয়। তার জন্য প্রথমে দরকার সঠিক খবর সংগ্রহ করা অর্থাৎ উপজেলা/জেলাতে কখন কোথায় কোন কাজ দেওয়া হবে তা প্রতিনিয়ত জানা।

বহু ধরনের কাজ হতে পারে যেমনঃ আসবাবপত্র, পোষাকাদি, মনোহারী, ঔষধ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হাসপাতালের খাবার ইত্যাদি সরবরাহ। আবার রাস্তাঘাট তৈরী, দালানকোঠা নির্মাণ, মাটি ভরাট ইত্যাদি করার মতো কাজ। বিভিন্ন ধরনের নিলামেও অংশ গ্রহন করা যেতে পারে। সেবামূলক কাজের খবর অনেক থাকে।

বর্তমানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বিষয়টি কুক্ষিগত করে রেখেছে বলে মনে হলেও, আমার মতে তা সাময়িক। কারন সরকার কর্তৃক নিয়োজিত ক্রয় কর্মকর্তাগণ পিপিআর মেনে কাজ করলে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই। কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা প্রভাবিত করতে পারবে না যদি উদ্যোক্তা এবং মিডিয়া কর্মীরা সোচ্চার থাকে।

গ্রামে বসেই উদ্যোক্তা হিসাবে কাজ পাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গুলো নেওয়া দরকারঃ

  • ১। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইমেইল অ্যাড্রেস তৈরী করতে হবে।
  • ২। http://bdtender.com ওয়েব সাইট টিতে নিজের জেলার দরপত্র বিষয়ক তথ্য ইমেইলে পেতে নিবন্ধন করতে হবে। এখানে সব ধরনের দরপত্র বিষয়ক তথ্য প্রতিদিন সন্নিবেশন করা হয়। সেবাটি পেতে মাসিক ফি দিতে হবে ২০০ টাকা।
  • ৩। প্রতিদিন ইমেইল চেক করে সব দরপত্র বিজ্ঞপ্তি গুলো খুলে পড়তে হবে।
  • ৪। নিজেকে যে ধরনের কাজের যোগ্য বলে মনে হবে তার জন্য ব্যবসায়িক লাইসেন্স, টিন, ভ্যাট নিবন্ধন সনদপত্র লোকাল পৌরসভা/সিটিকরপোরেশণ অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
  • ৫। অতঃপর কন্ট্রাক্ট পাওয়ার জন্য নিয়মিত ভাবে দরপত্রে অংশ গ্রহন করতে যেতে হবে।

ব্যবসাটা এভাবে করা যেতে পারেঃ মনে করেন আপনি ফার্নিচার সরবরাহ করবেন। ইন্টারনেটে ফার্নিচারের দরপত্র গুলো দেখতে থাকুন এবং স্থানীয় ফার্নিচার কারখানা গুলোর সাথে ভালো যোগাযোগ স্থাপন করুন। এখন মনে করেন আপনার পার্শের গ্রামের স্কুলে ১০ সেট টেবিল চেয়ার সরবরাহের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে এবং আপনার পক্ষে সরবরাহ করা সম্ভব। দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী সিডিউল সংগ্রহ করতে হবে এবং সিডিউল পূর্ন করে জমা দিতে হবে। সমস্ত খরচ বাদে সর্ব্বোচ ২০% লাভ হয় এমন ভাবে সিডিউল পূর্ন করতে পারেন। কারন সরকারী ক্রয়ে সাধারনতঃ আসল দ্রব্যমূল্যের সাথে ২০% বেশী ধরে বাজেট করা থাকে। সিডিউল মোতাবেক সিডিউল সঠিকভাবে পূর্ন করে দলিলাদির ফটোকপি যথাযথ ভাবে সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে। প্রথমে দরদাতা হিসাবে যোগ্য বিবেচিতো হতে হবে তারপর সর্বোনিম্ন হলে কার্যাদেশ পেতে পারেন। কার্যাদেশ প্রাপ্তির পরে ফার্নিচার সরবরাহ করতে পুঁজি লাগবে অথবা কারখানা থেকে বাকীতে ফার্নিচার নিতে হবে এক্ষেত্রে লাভ একটু কম হবে। ফার্নিচার সরবরাহের পর বিল জমা দিতে হবে আর বিল পাশ হলেই চেকের মাধ্যমে টাকা হয়ে যাবে। সব দেনা পরিশোধ শেষে যা থাকবে তা আপনার লাভ।

গত ১০ বছরে bdtender.com রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে ২,৭০০ উদ্যোক্তাকে এই সেবা দিয়ে আসছে। শিক্ষিত বেকারদের কাছে এই খবরটা পৌঁছে দিয়ে প্রতি জেলা/উপজেলাতে কমপক্ষে গড়ে ১০০ জনকে উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তোলা যাবে বলে আমরা মনে করি। তাতে ৬৪ জেলা এবং ৫৪০ উপজেলা মিলে (৬৪+৫৪০) x ১০০ অথবা ৬১,৪০০ জনের উদ্যোক্তা হিসাবে কর্মসংস্থান হতে পারে।

মনোযোগের সাথে চেষ্টা চালিয়ে গেলে জীবনের বড় অভিষাপ বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। আত্নবিশ্বাস রাখলে সাফল্য অনিবার্য।